বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান (২০১৮-১৯ঃ গণিত)

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান (২০১৮-১৯ঃ গণিত)
BUET Question Solution

গণিত অংশ


1. f(x) =√x-1, (x≥1), g(x) =x2 +2 হলে, (gof -1)(x) এবং (gof)-1(x) নির্ণয় কর।
উত্তরঃ = x-1
2. lim(1+7x)(5x+3)/x এর মান নির্ণয় কর।
উত্তরঃ e21
3. যদি f(x) =1/(1+x) হয়, f(f(f(x))) এর মান বের কর।
উত্তরঃ (2+x)/(3+2x)
4. যদি A-1 = হয়, তাহলে A2+2A এর মান নির্ণয় কর।
উত্তরঃ A2+2A =
5. একটি একক ভেক্টর নির্ণয় কর যা a^=i^+j^+k^ এবং b^=i^-j^-k^ ভেক্টরদ্বয়ের সমতলীয় এবং →a ভেক্টরের উপর লম্ব।
উত্তরঃ একক ভেক্টর =±2i^-j^-k^6
6. -i এর ঘনমূল তিনটির যোগফল নির্ণয় কর।
উত্তরঃ 0
7. ax2 + bx +c=0 সমীকরণের মূলদ্বয় α,β এবং bx2 +cx+a =0 সমীকরণের মূলদ্বয় γ,δ হলে, কোন শর্তে αβ=γδ হবে, বের কর।
উত্তরঃ b=c
8. পাশের অসীম ধারাটির যোগফল নির্ণয় কর:
উত্তরঃ =√3-1
9. n∈ℕ এবং |x|<1 হলে, দেখাও যে, (1+x)n/(1-x) এর বিস্তৃতিতে xn এর সহগ 2n
উত্তরঃ =2n
10. sin-12x +sin-1x
উত্তরঃ x=√(3/28)=√21/14
11. A(1,2) শীর্ষশিষ্ট বর্গের একটি কর্ণ 3x -4y-6=0 হলে, A বিন্দুগামী বাহুদ্বয়ের সমীকরণ নির্ণয় কর।
উত্তরঃ =7,-1/7
12. x2+y2=64 বৃত্তের যে জ্যা (3,4) বিন্দুতে সমদ্বিখন্ডিত হয়, তার সমীকরণ নির্ণয় কর।
উত্তরঃ 0
13. সাতটি বর্ণ A,B,C,D,E,F ও G কে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন A এবং B বর্ণদ্বয় কখনই পাশাপাশি না থাকে। কত প্রকারে এই শর্ত মেনে বর্ণগুলোকে সাজানো যেতে পারে?
উত্তরঃ =3600
14. tan y = 2t/(1-t)2 এবং sin x= 2t/(1-t)2 , হলে , dy/dx এর মান নির্ণয় কর।
উত্তরঃ =1
15. x=b রেখাটি y=(1-x)2, y=0 এবং x=0 দ্বারা আবদ্ধ ক্ষেত্রকে R1(0≤x≤b) এবং R2(b≤x≤1) অংশদ্বয়ে এমনভাবে বিভক্ত করে যেন R1-R2=1/4 হয়, b এর মান কত?
উত্তরঃ b=1/2
16. দেখাও যে ,√x+√y=a বক্ররেখার যে কোন স্পর্শক দ্বারা অক্ষ দুইটি থেকে কর্তিত অংশদ্বয়ের যোগফল একটি ধ্রুবক ।
উত্তরঃ a2
17. 1001 হতে 2500 পর্যন্ত নম্বর বিশিষ্ট 1500 টি লটারীর টিকেট একটি পাত্রে রেখে উত্তমরুপে মিশানোর পর দৈবচয়নের মাধ্যমে একটি টিকেট টানা হলে, টিকেকটির নম্বর 3 অথবা 5 এর গুণিতক হবার সম্ভাবনা কত?
উত্তরঃ 7/15
18. 5 ft দীর্ঘ একটি দড়ির একপ্রান্ত একটি উলম্ব দেয়ালে আটকানো এবং অন্য প্রান্ত 10 ft ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট একটি সুষম গোলকের সাথে যুক্ত । গোলকের ওজন √5 kg হলে দড়ির টান কত kg?
উত্তরঃ 3 kg - wt
19. রাস্তার উপর B বিন্দুটি A বিন্দুর সাপেক্ষে অনুভূমিক বরাবর 800 m দূরে এবং 50 m উচ্চতায় অবস্থিত। 9000 N ওজন বিশিষ্ট একটি গাড়ীকে রাস্তা বরাবর 700 N বল প্রয়োগ করে স্থিতাবস্থা থেকে চালু করে A থেকে B বিন্দুতে নিয়ে যেতে কত সময় লাগবে?
উত্তরঃ 918.37 kg
20. একজন ব্যাটম্যান 1.25 m উচ্চতায় 20 ms-1 বেগে অনুভূমিকের সাথে 40° কোণে একটি বলকে আঘাত করে। একজন ফিল্ডার বলটিকে ভূমি থেকে 50 cm উচ্চতায় ধরে ফেলে। ব্যাটম্যান ও ফিল্ডারের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় কর।
উত্তরঃ 41.06 m

কলার পোকামাকড় ও দমন ব্যবস্থাপনা

কলার ছাতরা পোকা

ক্ষতির প্রকৃতি ও লক্ষণ
এ পোকা আক্রান্ত গাছের বাড়ন্ত ডগা এবং মুকুল থেকে রস চুষে খায় এতে কচি ডগা ও মুকুল শুকিয়ে যায় এবং ফল ধারন বিঘœ সৃষ্টি করে। ফল ধারণ করলেও খুবই দুর্বল হয়, সামান্য বাতাসেই কচি ফল ঝড়ে পড়ে। সাধারণত এরা দলবদ্ধভাবে থাকে এবং ডগা ও মুকুলের বোঁটায় এমনভাবে গাদাগাদি করে থাকে যে আক্রান্ত ডগাটিই আর দেখতে পাওয়া যায় না। আক্রমণ মারাত্মক হলে এদের নিঃসৃত মধুরসে শু্যঁটিমোল্ড রোগ হয় ফলে পাতা কালো হয়ে যায় বলে ঠিকমতো খাদ্য তৈরি হয় না এবং আক্রান্ত গাছ অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির হয় এবং গাছে ফলন অত্যন্ত কমে যায়।

এ ধরনের ছাতরা পোকার অপ্রাপ্ত বয়স্ক নিম্ফ বেশ কয়েকটি পরজীবী পোকা দ্বারা আক্রান্ত  হতে পারে। এদের মধ্যে Phygadeuon sp. (Ichneuminidae), Getonides perspicax Knal Ges Rodolia fumida এর কীড়া অন্যতম। পরজীবী পোকার ব্যাপক আক্রমণের ফলে প্রতি বছর এর আক্রমণের হার কমবেশি হতে দেখা যায়। এমনকি এক বছর এর ব্যাপক আক্রমণ পরিলক্ষিত হলেও পরবর্তী বছর কোনো ধরনের আক্রমণ নাও হতে পারে।  

দমন ব্যবস্থাপনা
১.  বাগানে জন্মানো আগাছা ও অন্যান্য পোষক উদ্ভিদ তুলে বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

২. গ্রীষ্মকালে (বিশেষত সেপ্টেম্বর-অক্টেবর মাসে)  বাগান ভালো করে চাষ দিতে হবে বা পূর্ববর্তী বছরে আক্রান্ত গাছসমূহের গোড়ার মাটি কোদাল দিয়ে আলগা ও এপিঠ-ওপিঠ করে দিতে হবে যাতে মাটির নিচে থাকা ডিম উপরে উঠে আসে এবং পাখি ও অন্যান্য শিকারী পোকার কাছে তা উন্মুক্ত হয়, তাছাড়া রোদে পোকার ডিম নষ্ট হয়ে যায়।

৩. যেহেতু নিম্ফগুলো গাছ বেয়ে ওপরে উঠে তাই নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ হতেই গাছের গোড়ায় মাটি থেকে ১ মিটার উঁচুতে ৮-১০ ইঞ্চি চওড়া প্লাস্টিকের পিচ্ছিল  ব্যান্ড গাছের চতুর্দিকে আবৃত করে দিলে এরা বার বার ওঠার ব্যর্থ চেষ্টা করে পরিশ্রান্ত হয়ে মারা যায়। অনেক সময় প্লাস্টিকের পিচ্ছিল ব্যান্ডের নিচের অংশে নিম্ফগুলো জমা হয়। এ অবস্থায় এদের সহজেই পিটিয়ে বা একসাথে করে আগুনে পুড়িয়ে মারা সম্ভব অথবা জমাকৃত পোকার উপর কীটনাশক ¯েপ্র করে দমন করা যায়। এসময় নিম্ফগুলোকে গাছে উঠা হতে নিবৃত করতে পারলে এ পোকার আক্রমণ পুরোপুরিভাবে দমন করা সম্ভব।

৪. যদি কোনো কারণে নিম্ফগুলো গাছ বেয়ে উপরে উঠে যায় তবে শুধুমাত্র গাছের আক্রান্ত অংশে (Spot application) সংস্পর্শ ও পাকস্থলী (Contact and stomach) কীটনাশক বিধি মোতাবেক প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিকভাবে অল্প কিছু পরিমাণ নিম্ফ গাছ বেয়ে উপরে উঠে গেলে কেবলমাত্র গুঁড়া সাবান মিশ্রিত পানি (প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে) স্প্রে করে এ পোকার আক্রমণ রোধ করা সম্ভব। তবে ব্যাপকভাবে আক্রমণের ক্ষেত্রে কীটনাশক প্রয়োগের বিকল্প নেই। যেহেতু এ পোকাটির বহিরাবরণ ওয়াক্সি পাউডার জাতীয় পদার্থ দিয়ে সুরক্ষিত থাকে সেহেতু পরীক্ষিত কীটনাশক ছাড়া এটি দমন করা দুরূহ।  এ ক্ষেত্রে প্রথমে ক্লোরপাইরিফস (ডারসবান ২০ ইসি বা এ জাতীয় কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ৩ মিলি. হারে) এবং তার ৩-৪ দিন পর কার্বারাইল (সেভিন ৮৫ এসপি বা এ জাতীয় কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে) আক্রান্ত অংশে ¯েপ্র করতে হবে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার এভাবে স্প্রে করলে এ পোকা সম্পূর্ণভাবে দমন করা সম্ভব।

কলার বিটল পোকা

 

আক্রমণে ক্ষতির লক্ষণ
১। বিটল পোকার কীড়া এবং পূর্ণ বয়স্ক পোকা উভয়ই কলাগাছের ক্ষতি করে।
২। এই পোকার আক্রমণে পূর্ণবয়স্ক পোকা প্রথমে কলা গাছের কচি হলুদ পাতা কুরে কুরে খায়। যার ফলে কলা গাছের কচি পাতাতে কালো দাগ পড়ে।
৩। এছাড়াও পরবর্তীতে কলা গাছের পাতা বড় হলে দাগও বড় হয়। ফলে পোকা আক্রান্ত গাছের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া ব্যহত হয়।
৪। পূর্ণাঙ্গ বিটল পোকা কচি কলার সবুজ অংশ চেঁছে খেয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দাগ তৈরি করে।
৫। কলা বড় হওয়ার সাথে সাথে উক্ত তৈরি করা দাগগুলি আকারে বড় হয়। পরবর্তীতে এই দাগ কালচে বাদামী রঙ ধারণ করে।
৬। আক্রান্ত গাছের দাগযুক্ত কলা বসন্ত রোগের মত দেখায়।
৭। বিটল পোকার আক্রমণ বেশি হলে আক্রান্ত ফল আকারে ছোট মনে হয় এবং ফলন কমে যায়।
দমন ব্যবস্থাপনা
১। প্রয়োজনে মুড়ি ফসল চাষ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কলার বাগান সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
২। আক্রান্ত ক্ষেতের গাছের মরা পাতা এবং অন্যান্য আগাছা একত্র করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৩। কলা বাগানে আঠাযুক্ত বোর্ড স্থাপন করতে হবে।
৪ কলা বাগানে আলোর ফাঁদ স্থাপন করতে হবে।
৫। কলার মোচা বের হওয়ার সাথে সাথে দুই মুখ খোলা ছিদ্র বিশিষ্ট পলিথিন ব্যাগ দিয়ে কলার মোচা ঢেকে দিতে হবে।
৬। এরপর কলার কাদি সম্পূর্ণ বের হবার এক মাস পর উক্ত পলিথিন খুলে দিতে হবে।
৭। গাছে কাঁদি আসার আগ পর্যন্ত কচি পাতার গোড়ায় বিটল পোকা লুকিয়ে থাকে। ম্যালাথিয়ন অথবা নগস ভালভাবে স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়।
৮। এ পোকা কার্বাইল গ্রুপের যেমন সেভিন ১.৫ গ্রাম প্রতি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে মোচা বের হওয়ার সাথে সাথে একবার কাদির প্রথম কলা বের হওয়ার পর একবার এবং সম্পূর্ণ কলা বের হওয়ার পর আরও একবার মোট ৩ বার গাছে স্প্রে করতে হবে।
৯। আক্রমণের তীব্রতা বেশি হলে আইসোপ্রোকার্ব গ্রুপের (যেমন মিপসিন ৭৫ ডব্লিউপি ০২ গ্রাম/ লিটার) অথবা প্রতি লিটার পানিতে ০২ গ্রাম একতারা ২৫ ডব্লিউজি  কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে ভালভাবে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।

কলার রোগ ও তার প্রতিকার

কলার পানামা রোগ (Panama Disease of Banana)

Fusarium oxysporum  নামক ছত্রাকের কারণে করার পানামা রোগ হয়ে থাকে।

লক্ষণঃ
    ১) এ রোগে প্রথমে বয়স্ক পাতার কিনারা হলুদ হয় এবং পরে কচি পাতাও হলুদ রং ধারণ করে।
    ২) পরে পাতা বোটার কাছে ভেঙ্গে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে ও গাছ মারা যায়।
    ৩) কোন কোন সময় গাছ লম্বালম্বিভাবে ফেটেও যায় এবং ভিতরের ভাস্কুলার বান্ডেল হলদে বাদামি বর্ণ ধারণ করে।

প্রতিকারঃ
    ১) আক্রান্ত গাছ গোড়া থেকে উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে।
    ২) রোগমুক্ত গাছ থাকে চারা রোপণ করতে হবে
    ৩) আক্রান্ত বাগান থেকে চারা সংগ্রহ না করা।
    ৪) ব্যাপক হারে কলাগাছ আক্রান্ত হলে কমপক্ষে ২ বছর ঐ জমিতে কলা চাষ করা বন্ধ রাখতে হবে। অর্থাৎ শস্য পর্যায় অনুসরণ করতে হবে।
    ৫) চুন প্রয়োগ করে মাটির পি-এইচ (PH) বৃদ্বি করতে হবে। অথবা কলার চারা লাগানোর ১৫ দিন পূর্বে প্রতি গর্তে ২০০-৩০০ গ্রাম ডলোচুন প্রয়োগ করা যেতে পারে।
    ৬) চারা লাগানোর পুর্বে গর্তে ১% ফরমালিন ও ৫০ ভাগ পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া এবং ১০-১২ দিন পর চারা রোপণ করা।
    ৭) চারা রোপণের ১ মাস পরে কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছের চারিদিকে প্রতি মাসে একবার করে প্রয়োগ করতে হবে।

করার গুচ্ছমাথা রোগ (Bunchy Top Disease of Banana)

 


এটি ভাইরাসজনিত রোগ।

লক্ষণঃ

    ১) এ রোগের কারণে কলা গাছের বৃদ্ধি হ্রাস পায় এবং পাতা গুচ্ছাকারে বের হয়।
    ২) পাতা আকারে খাটো, অপ্রস্থ এবং উপরের দিকে খাড়া থাকে।
    ৩) কচি পাতার কিনারা উপরের দিকে বাকানো এবং হলুদ রংয়ের হয়। পাতার শিরার মধ্যে ঘন সবুজ দাগ পড়ে।
প্রতিকারঃ
    ১) আক্রান্ত গাছ দেখা মাত্র গোড়াসহ তুলে পুড়ে বা পুতে ফেলা।
    ২) সুস্থ সবল চারা রোপণ করা।
    ৩) ভাইরাসের বাহক পোকা (জাবপোকা ও থ্রিপস) দমনের জন্য অনুমোদিত বালাইনাশক ইমিডাক্লোরপ্রিড ( এসাটাফ, টিডো, এডমায়ার, বাম্পার, এমপায়ার) প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে বা অনুমোদিত মাত্রানুযায়ী স্প্রে করতে হবে।

কলার সিগাটোকা রোগ (Sigatoka Disease of Banana)

 

কলা গাছে পাতায় দাগ বা সিগাটোকা (Leaf spot or Sigatoka) রোগটি সারকোস্পোরা মুসি (Cercospora musae) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

লক্ষণ:

    ১) এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হল গাছের তৃতীয় ও চতুর্থ কচি পাতায় ছোট ছোট হলুদ দাগ পড়ে।
    ২) দাগগুলো ধীরে ধীরে বড় হয় ও বাদামী ঝলসানো রঙ ধারণ করে।
   ৩) বেশি আক্রান্ত পাতা আগুনে ঝলসানো বা পোড়া মনে হয়। আক্রান্ত গাছের ফলন ১০-১৫% কম হয়।
    ৪) তীব্র আক্রমণে অনেক পাতা সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়।

প্রতিকার:

   ১) রোগমুক্ত চারা লাগাতে হবে।
    ২) পাতলা করে গাছ লাগাতে হবে।
   ৩) আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত পাতা কেটে ফেলে রোগের তীব্রতা কমানো যায়।
    ৪) ২-৩ মাস পর পর গাছের নীচের দিকের পাতাগূলো সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে।
   ৫) জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
    ৬) রোগের আক্রমণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে গাছে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম অথবা প্রোপিকোনাজোল গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে।

 Source: Internet

পেয়ারার রোগ ও তার প্রতিকার

এ্যানথ্রাকনোজ

 

এ্যানথ্রাকনোজ একটি ছত্রাক জনিত রোগ। গাছের পাতা, কান্ড, শাখা ও ফল এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগ হলে ফলের গায়ে ছোট ছোট বাদামী দাগ পড়ে। তাছাড়া ফল শক্ত, ছোট ও বিকৃত আকারের হতে পারে। ফল পাকা শুরু হলে দাগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং ফলটি ফেটে বা পঁচে যায়। আক্রান্ত পাতায় মরিচা পড়ার মত দাগ দেখা যায়। কচি ডাল আক্রান্ত হলে তাতে বাদামী দাগ পড়ে এবং ডালটি মারা যায়। বর্ষাকালেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী দেখা যায়। গাছের পরিত্যক্ত শাখা প্রশাখা, ফল ও পাতায় এ রোগের জীবানু বেঁচে থাকে। বাতাস ও বৃষ্টির মাধ্যমে এ্যানথ্রাকনোজ রোগ ছড়ায়।
এ্যানথ্রাকনোজ প্রতিকার
গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। গাছে ফল মার্বেল সাইজ হওয়ার পর থেকে নোইন/অটোস্টিন অথবা পিডিয়ন বা রোভরাল বা একরোবেট এমজেড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম নোইন ৫০ ডব্লিউপি অথবা টিল্ট ২৫০ ইসি বা কোগার ২৮ এসসি বা নাভারা বা কারিশমা প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. অথবা ডিফেন্স ৩৫ এসসি ০১ মিলি হারে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ৩-৪ বার ভালভাবে স্প্রে করে এ রোগ দমন করা যায়।


 ফিউজারিয়াম উইল্ট বা ঢলে পড়া রোগ

 

ফিউজেরিয়াম নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ সমস্যা হয়। প্রথমে পাতা হলুদ হয়ে আসে এবং পরে শুকিয়ে যায়। এভাবে পাতার পর প্রশাখা-শাখা এবং ধীরে ধীরে সমস্ত গাছই ৮-১০ দিনের মধ্যে নেতিয়ে পড়ে ও মারা যায়।

ফিউজারিয়াম উইল্ট বা ঢলে পড়া রোগ প্রতিকার
এ রোগের কোন প্রতিকার নেই। তাই একে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে।মাঠে/বাগানে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করতে হবে।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন আদিজোড় যেমন পলিপেয়ারার সাথে কলম করে এ রোগের আক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।বাগানের মাটিতে অম্লত্বের পরিমাণ কমানোর জন্য চুন প্রয়োগ করতে হবে।


 শুটিমোল্ড

 

শীতের সময় সাদামাছি পোকা ও মিলিবাগ এর আক্রমণের ফলে পেয়ারা গাছের পাতা ছাই সদৃশ পদার্থ দ্বারা আবৃত হয়ে যায়। এটি শুটিমোল্ড নামক ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে। আক্রান্ত পাতা ঝরে পড়ে ও গাছ দুর্বল হয়ে যায়।

শুটিমোল্ড প্রতিকার
সাদা মাছি পোকা ও মিলিবাগ দমন করতে হবে। নোইন/অটোস্টিন অথবা পিডিয়ন বা রোভরাল বা একরোবেট এমজেড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম নোইন ৫০ ডব্লিউপি অথবা টিল্ট ২৫০ ইসি বা কোগার ২৮ এসসি বা নাভারা বা কারিশমা প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. অথবা ডিফেন্স ৩৫ এসসি ০১ মিলি হারে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।


তথ্যের উৎসঃ ইন্টারনেট

পেয়ারার পোকা মাকড় দমন

 হোয়াইট ফ্লাই বা সাদা মাছি

 
সাদা মাছি পোকা পাতার নিচের দিকে আক্রমণ করে রস চুষে খায়। এর ফলে পাতায় সুটিমোল্ড ছত্রাক জন্মে এবং পাতা ঝরে যায়।

সাদা মাছি দমন
সাদা মাছি দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে পাঁচ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে গাছে স্প্রে করা।

ফল ছিদ্রকারী পোকা

 

ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হলে ফলের গায়ে কোথাও না কোথাও ছিদ্র হয়, ফল বিকৃত হয়ে যায়, ছিদ্রের মুখ দিয়ে পোকার মল পড়তে থাকে। কিন্তু ফলের মাছি পোকা আক্রমণ করলে গায়ে কোনো ছিদ্র হয় না, ফলও বিকৃত হয় না, রঙও ঠিক থাকে। শুধু ভেতরটা নষ্ট হয়ে যায়।

ফল ছিদ্রকারী পোকা দমন
ম্যালথিয়ন ৫৭-ইসি বা ফেনিট্রথিয়ন প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ মিলিলিটার পরিমাণ মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে। গাছের নিচে ঝরে পড়া কোনো ফল রাখা চলবে না।

 মিলিবাগ বা ছাতরা পোকা

 

এ দেশের অধিকাংশ পেয়ারা গাছেই ছাতরা পোকা দেখা যায়। আক্রান্ত ডাল বা পাতায় এরা দল বেঁধে আঁকড়ে থাকে। সাদা রংয়ের এ পোকাগুলিকে দেখতে অনেকটা সাদা ছাতা বা তুলার মত দেখায়। এরা কচি পাতা, বিটপ, প্রশাখা এমনকি ফুল থেকেও রস চুষে খেতে থাকে। ফলে আক্রান্ত অংশ শুকিয়ে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়।

ছাতরা পোকা দমন
যদি আক্রমণের মাত্রা কম থাকে তবে আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলা ভাল। আক্রান্ত হলে ২০ মিলি ম্যালথিয়ন ৫৭ ইসি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 দয়ে পোকা (ডরসিকা ম্যাঙ্গিফেরা ও প্ল্যানোকাক্কাস সিট্রি)

 

দয়ে পোকার পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ দশা গাছের সবুজ অংশের রস শোষণ করে এবং সাদা আঁশের মতো আচ্ছাদন সৃষ্টি করে। দয়ে পোকা আক্রান্ত গাছের অংশ শুকিয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী পোকা এপ্রিল-মে মাসে গাছ থেকে নেমে মাটিতে ডিম পাড়ে ও ডিসেম্বর পর্যন্ত মাটিতেই থাকে।

দয়ে পোকা দমন
নিয়মিত বাগান পরিষ্কার রাখা ও আগাছামুক্ত রাখা। গ্রীষ্মকালীন চাষ দেওয়া, এতে রোদের তাপে মাটিতে অবস্থিত ডিম নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়াও খুব বেশি আক্রমণ দেখা দিলে কীটনাশক যেমন অ্যাসিফেট ৭৫% ডব্লুপি (০.৭৫ গ্রাম প্রতি লিটার জলে) অথবা ডাইমিথোয়েট ৩০% ইসি (২ মিলি প্রতি লিটার জলে) স্প্রে করতে হবে।

 তথ্যের উৎসঃ ইন্টারনেট

লিচুর পোকা মাকড় দমন

 লিচুর গান্ধিপোকা

 

এটি একটি গৌণ ক্ষতিকর পোকা। তবে লিচু উৎপাদনকারী দেশে এটি আস্তে আস্তে মুখ্য ক্ষতিকর পোকা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দেশের সব লিচু উৎপাদনকারী এলাকায় গাছের নরম অংশ যেমন বর্ধনশীল ডগা, পাতা ও ফলের বোঁটা এবং কচি ডালের কোষের রস চুষে খাচ্ছে। ব্যাপক আক্রমণে বাড়ন্ত ফল ও ডগা শুকিয়ে যায় ফলে গাছে কম ফল ধরে। অনেকগুলো পোকা যখন বাড়ন্ত ফলে জমাট বেঁধে আক্রমণ করে তখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফল ঝরে পড়ে। কাঠলিচু, রাম্বুটান, গোলাপ, ডালিম, ইউক্যালিপটাস, জাম্বুরা এর বিকল্প পোষক। এরা সাধারণত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দেখা দেয় আর আগস্টের শেষ সপ্তাহে পূর্ণ বয়স্ক পোকাগুলো শীতনিদ্রায় চলে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ পোকা ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। এ বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন লিচু উৎপাদনকারী এলাকা যেমন- পাবনা, দিনাজপুর এ পোকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে মাঠ থেকে সংবাদ পাওয়া গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়ন্ত লিচু রস চুষে খাচ্ছে, প্রাথমিকভাবে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে এবং আক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেলে ফল শুকিয়ে ঝরে পড়ছে।

ক্ষতিকর এ পোকার স্ত্রী পোকাগুলো পাতার নিচের দিকে গোলাকার ফ্যাকাসে গোলাপি বর্ণের ১০-১২টি ডিম গুচ্ছ আকারে পড়ে থাকে। ডিম, নিম্ফ (বাচ্চা কীড়া) ও পূর্ণাঙ্গ পোকা এ তিনটি স্তরে লিচুর গান্ধিপোকা জীবনচক্র সম্পন্ন করে। নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ পোকা রস চুষে খেয়ে লিচু গাছের ক্ষতি করে থাকে। নিম্ফ বা বাচ্চার পাঁচটি স্তর দেখা যায়। নিম্ফের প্রথম স্তর দেখতে প্রায় অর্ধ আয়তাকার বাদে বাকি চারটি স্তরই গাঢ় লাল এবং অর্ধ আয়তাকার দেখতে হয়ে থাকে। পুরুষ পোকা ৪৩-৪৫ দিন আর স্ত্রী পোকা ৪৭-৪৮ দিন বেঁচে থাকে। সদ্য ফোটা নিম্ফ (বাচ্চা) ময়লাটে সাদা এবং নরম দেহের পোকা কিন্তু পোকার রং কয়েকদিনের মধ্যেই হলদে-লাল হতে শুরু করে। স্ত্রী পোকাগুলো বাচ্চা দেয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি এবং আক্রমণ তীব্র হলে লিচুর ফলন শতকরা ৮০ ভাগের বেশি কমিয়ে দিতে পারে।

গান্ধিপোকার দমন ব্যবস্থাপনা
শীতকালে গাছকে ঝাঁকিয়ে পোকা সংগ্রহ করে কেরোসিনে ডুবাতে হয়, কিন্তু এটি অল্প জায়গায় ছোট গাছের জন্য প্রযোজ্য। গান্ধিপোকার ডিম গুচ্ছ আকারে দেখা গেলে সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। বাচ্চা বা পূর্ণ বয়স্ক পোকা দমনে কিছু কিছু ছত্রাক, পাখি এবং লাল পিঁপড়া জৈবিক দমনে সাহায্য করে থাকে বলে জানা যায়। যে কোনো ভালোমানের অন্তর্বাহী বালাইনাশক লিচুর গান্ধি নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। যদিও বালাইনাশক ও এর মাত্রা নির্ধারণে বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে কার্বারিল গ্রুপের সেভিন/এসিকার্ব এক লিটার পানিতে ৩ গ্রাম হারে অথবা ক্লোরোপাইরিফস গ্রম্নপের ডারসবান/মর্টার/এসিমিক্স/নাইট্রো এক লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে যে কোনো একটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা যায়, স্প্রেকৃত রাসায়নিক বালাইনাশকের কার্যকারিতা বছরের বিভিন্ন সময় দেহের ফ্যাটের ওপর নির্ভর করে।

ফল ছিদ্রকারী পোকা

 

লক্ষণ ও ক্ষতির ধরণ
এ পোকা ফলের বোঁটার কাছে ছিদ্র করে এবং ভেতরে ঢোকে এবং বীজকে আক্রমণ করে। পরে ছিদ্রের মুখে বাদামি রঙের এক প্রকার করাতের গুঁড়ার মতো মিহি গুঁড়া উৎপন্ন করে। এতে ফল নষ্ট হয় এবং বাজারমূল্য কমে যায়।
দমন ব্যবস্থাপনা
১) লিচু বাগান নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
২)আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুঁতে ফেলা।
৩)লিচু গাছ তলায় শুকনো খড়ে আগুন দিয়ে তাতে ধুপ দিয়ে ধোঁয়া দিতে হবে। এতে এ পোকার মথ বা কীড়া বিতড়িত হবে। ফলে লিচুর মধ্যে ডিম পাড়বে না।
৪) বোম্বাই জাতে এ পোকার আক্রমণ বেশি হয় তাই আক্রমণপ্রবণ এলাকায় চায়না-৩ জাত রোপণ করা।
৫) নিম তেল বা নিমকবিসিডিন (০.৪%) পানিতে গুলে স্প্রে করে দেখা যেতে পারে। আক্রমণ বেশি হলে ২ মিলি লেবাসিড বা সুমিথিয়ন বা ডায়াজিনন ৬০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

 লিচুর মাইট বা মাকড়


 

লক্ষণ ও ক্ষতির ধরণ
পূর্ণ বয়স্ক ও বাচ্চা মাকড় একটি শাখার কটি পাতায় আক্রমণ করে ও পাতার রস চুষে নেয়। ফলে আইরিনিয়াম নামক বাদামি রংয়ের মখমলের মতো এক ধরনের আবরণ তৈরি হয়। পাতা ভেতরের দিকে কুঁকড়িয়ে গিয়ে শেষে আক্রান্ত পাতা শুকাতে থাকে।
দমন ব্যবস্থাপনা
১) লিচু বাগান নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
২) আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে পুঁতে ফেলা।
৩) জুন ও আগস্ট মাসে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা যেমন নিমবিসিডিন (০.৪%)। মধ্য ভাদ্র হতে কার্তিক মাস এবং মাঘের শেষ হতে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত গাছে ২/৩ বার মাকড়নাশক ব্যবহার করা যেমন ওমাইট ২ মিলি বা ২ গ্রাম থিওভিট বা কুমুলাস বা রনভিট প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা।

 মিলিবাগ পোকা।

 

লক্ষণ ও ক্ষতির ধরণ
এরা পাতার রস ও ডালের রস চুষে নেয় ফলে গাছ দুর্বল হয়। পোকার আক্রমণ পাতা ও ডালে সাদা সাদা তুলার মতো দেখা যায়। অনেক সময় পিঁপড়া দেখা যায়।
দমন ব্যবস্থাপনা
১) আক্রান্ত পাতা ও ডগা ছাঁটাই করে ধ্বংস স্বচ্ছ ১৫.২০ সেমি উপরে স্বচ্ছ পলিথিন দ্বারা মুড়ে দিতে হবে যাতে মিলিবাগ গাছে উঠতে না পারে।
২) হাত দিয়ে ডিম ও বাচ্চার গাদা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
৩) জৈব বালাইনাশক নিবিসিডিন (০.৪%) ব্যবহার করা।
৪) আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি রগর, টাফগর, সানগর বা সুমিথিয়ন এবং ১.৫ মিলি মিপসিন বা সপসিন মিশিয়ে স্প্রে করা।

 তথ্যের উৎসঃ ইন্টারনেট

লিচুর রোগ ও তার দমন ব্যবস্থাপনা

লিচুর পাতা পোড়া রোগ

লক্ষণঃ
১। এ রোগে আক্রান্ত হলে পাতায় প্রথমে হলুদ দাগ পড়ে পরে তা বাদামী হয় ।
২। পাতা শুকিয়ে যায় ।
ব্যবস্থাপনাঃ
১। আক্রান্ত ডাল বা পাতা অপসারণ করা ।
২। ডাইথেন এম ৪৫ বা রিদোমিল গোল্ড ২ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।
সাবধানতাঃ
বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না।
করনীয়ঃ
১। ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন ।
২। পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন ।
৩। নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।

লিচুর পাতার দাগ রোগ

 

লক্ষণঃ
১) এ রোগ ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে।
২) এতে পাতায় বাদামী থেকে কালো দাগ হয়।কচি পাতা আক্রান্ত হলে পাতা কুঁচকে যায়।
দমন ব্যবস্থাপনাঃ
১) আক্রান্ত পাতা ও ডগা ছাটাই করে ধ্বংস করা।
২) গাছের বয়স অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ করা।
৩) বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না।
৪)  ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন।
৫) পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন
৬) নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।

লিচুর পাউডারি মিলডিউ রোগ

 

 লক্ষণঃ
রোগের জীবানু মুকুলে, কচি ফলে এবং নতুন ডগায় সাদা পাউডারের আবরণ সৃষ্টি করে । হাত দিয়ে ঘসলে পাউডার সরে যায় । দৃশ্যমান সাদা পাউডার প্রকৃতপক্ষে ছত্রাকজালিকা এবং বীজ অনুর সমষ্টি । জীবানু মুকুল থেকে অতিরিক্ত খাদ্য রস শোষণ করার ফলে আক্রান্ত মুকুল শুকিয়ে যায় ।
ব্যবস্থাপনাঃ
পানি স্প্রে করলে রোগের প্রকোপ কমানো যায় । মুকুলে সাদা পাউডারের আবরণ দেখা দিলেই ম্যাকভিট ৮০ ডিএফ/ম্যাকসালফার ৮০ ডব্লিউপি প্রতি লিটার পানিতে ২গ্রাম হারে স্প্রে করতে হবে ।

 লিচুর এনথ্রাকনোজ রোগ

 

লক্ষণঃ
১। এ রোগের আক্রমণে ফলের গায়ে ছোট ছোট বাদামী দাগ ক্রমে ক্রমে বড় হয়।
২। ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় ফল ফেটে যায়।
ব্যবস্থাপনাঃ
১। আক্রান্ত ফল, পাতা ও ডগা ছাটাই করে ধ্বংস করা।
২। গাছের নিচে পড়া ফল, পাতা সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলা ।
৩। ফল মটর দানার মত আকারের হলে - টিল্ট ২৫০ ইসি ১০ লি. পানিতে ৫ মি.লি. মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ বার স্প্রে করা।
সাবধানতাঃ
১। বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না ।
২। স্প্রে করার এক মাসের মধ্যে ফল খাওয়া যাবেনা ।
করনীয়ঃ
১। ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন ।
২। পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন ।
৩। নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।

 লিচুর সুটিমোল্ড রোগ

 

রোগের কারণ : ছত্রাক
ক্ষতির ধরণ : পাতায়, ফলে ও কান্ডে কাল ময়লা জমে। মিলিবাগ বা খোসা পোকার আক্রমণ এ রোগ ডেকে আনে।
ফসলের যে পর্যায়ে আক্রমণ করে :  বাড়ন্ত পর্যায় , ফলের বাড়ন্ত পর্যায়
ফসলের যে অংশে আক্রমণ করে : পাতা , ফল
ব্যবস্থাপনা :
প্রোপিকোনাজল জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন টিল্ট ৫ মিলি/ ১ মুখ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে  ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে ।বালাইনাশকস্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।


 Source: Internet

আমের ক্ষতিকর পোকা ও তার দমন ব্যবস্থাপনা

আমের শোষক পোকা

 
এ পোকা অন্য সব পোকার চাইতে আমের বেশী ক্ষতি করে থাকে। বাংলাদেশের সর্বত্র এবং আমের সবজাতে এ পোকা আক্রমণ করে থাকে। সারা বছর আমগাছে এই পোকাগুলি দেখা যায়।

ক্ষতির ধরণ

আম গাছে কচি পাতা বা মুকুল বের হওয়ার সাথে সাথে এগুলি সক্রিয় হয়ে উঠে। এ পোকা নিম্ফ ও পূর্ণবয়স্ক উভয় অবস্থায় আমগাছের সকল কচি অংশ থেকে রস চুষে খেয়ে বেঁচে থাকে। নিম্ফ গুলি আমের মুকুল থেকে রস চুষে খায় এতে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে। একটি হপার পোকা দৈনিক তার দেহের ওজনের ২০ গুণ পরিমান রস শোষন করে খায় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত আঠালো রস মলদ্বার দিয়ে বের করে দেয় যা মধুরস বা হানিডিউ নামে পরিচিত। এ মধুরস মুকুলের ফুল ও গাছের পাতায় জমা হতে থাকে যার উপর এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। এই পোকার আক্রমণে আমের উৎপাদন শতকরা ২০-১০০ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। তাছাড়া হপার আক্রান্ত গাছের বৃদ্ধি কমে যায়।

প্রতিকার

ক) আম বাগান সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে বিশেষ করে গাছের ডাল পালা যদি খুব ঘন থাকে তবে প্রয়োজনীয় পরিমান ছাঁটাই করতে হবে যাতে গাছের মধ্যে প্রচুর আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে
খ) অমের মুকুল যখন ৮/১০ সেন্টিমিটার লম্বা হয় তখন একবার এবং আম মটর দানার মত হলে আর একবার প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে সাইপারমেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক (যেমন রাইজ) মিশিয়ে সম্পূর্ণ গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে
গ) আমের হপার পোকার কারণে সুটিমোল্ড রোগের আক্রমণ অনেক সময় ঘটে তাই সুটিমোল্ড দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সালফার জাতীয় ঔষধ (যেমন ঔষধ) ব্যবহার্য কীটনাশকের সাথে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফল ছিদ্রকারী পোকা

 

আমের ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ ১৯৯৫ সাল থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জ এর বিভিন্ন উপজেলায় লক্ষ্য করা যায়। এর পর প্রায় প্রতি বছর এ পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। বর্তমানে আম চাষীদের নিকট এ পোকা একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।

ক্ষতির ধরণ

আম মার্বেল আকারের হলেই এ পোকার আক্রমন শুরু হয় এবং আম পাকার পূর্ব পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। পূর্ণ বয়স্ক স্ত্রী পোকা আমের নিচের অংশে খোসার উপর ডিম পাড়ে। কয়েকদিনের মধ্যেই ডিম ফুটে কীড়া বের হয়। কীড়া খুব ছোট বিন্দুর মত আম ছিদ্র করে আমের ভিতর ঢুকে পড়ে এবং আমের শাঁস খেতে থাকে। পরে আটি পর্যন্ত আক্রমণ করে। আক্রান্ত স্থানটি কাল হয়ে যায়। আক্রান্ত স্থানে জীবাণুর আক্রমণের ফলে পচন ধরে যায়। বেশী আক্রান্ত আম ফেটে যায় এবং গাছ থেকে পড়ে যায়।

প্রতিকার

ক) আক্রান্ত আম সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে অর্থাৎ মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে এবং গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে। ফলে পোকার আক্রমণ কম হবে।
খ) আম বাগান নিয়মিত চাষ দিয়ে আগাছা মুক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
গ) পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়া মাত্র ফেনিট্রোথিয়ন বা ফেনথিয়ন জাতীয় কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে স্প্রে করতে হবে। তাছাড়া কার্বারিল জাতীয় কীটনাশক ২ গ্রাম/লিটার পানিতে অথবা কারটাপ জাতীয় কীটনাশক ১ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়। এক্ষেত্রে হারভেস্ট-এ ভাল ফল পাওয়া যায়।

মাছি পোকা

 

মাছি পোকা দ্বারা পরিপক্ক ও পাকা আম আক্রান্ত হয়। ফজলী, ল্যংড়া, খিরসাপাত সহ বিভিন্ন জাতের পরিপক্ক ও পাকা আম গাছে থাকা অবস্থায় এ পোকা আক্রমণ করে।

ক্ষতির ধরণ

স্ত্রী পোকা ডিম পাড়ার অঙ্গের সাহায্যে গাছে থাকা অবস্থায় পরিপক্ক ও পাকা আমের গা চিরে ডিম পাড়ে অর্থাৎ খোসার নিচে ডিম পাড়ে। আক্রান্ত স্থান থেকে অনেক সময় রস বের হয়। বাইরে থেকে দেখে কোনটি আক্রান্ত আম তা বুঝা যায় না। আক্রান্ত পাকা আম কাটলে ভেতরে সাদা রং এর কীড়া দেখা যায়। বেশী আক্রান্ত আম অনেক সময় পঁচে যায়। সাধারণতঃ এ পোকা আমের উপর এবং নিচ উভয় অংশে আক্রমণ করে।

প্রতিকার

ক) আম গাছে পাকার আগেই পরিপক্ক অবস্থায় পেড়ে আনা
খ) আক্রান্ত আম সংগ্রহ করে মাটির নিচে গভীর গর্ত করে পুতে ফেলতে হবে
গ) প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমের রসের সাথে ০.৫ গ্রাম সেভিন মিশিয়ে বিষটোপ বানিয়ে এ বিষ টোপ বাগানে রেখে মাছিপোকা দমন করা যেতে পারে
ঘ) আম পরিপক্ক ও পাকার মৌসুমে আমবাগানে ব্লিচিং পাউডার প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে স্প্রে করতে হবে
ঙ) আম পরিপক্ক ও পাকার মৌসুমে প্রতিটি আম কাগজ (ব্রাউন পেপার) দ্বরা মুড়িয়ে দিলে আমকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যাবে
চ) ফেরোমনের ফাঁদও ( মিথাইল ইউজেনল) ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে প্রচুর পুরুষ পোকা মারা যাবে এবং বাগানে মাছি পোকার আক্রমণ কমে যাবে।

কান্ডের মাজরা পোকা

 

বাংলাদেশের সর্বত্রই কমবেশী এ পোকার আক্রমণ দেখা যায় এবং খুব কম সংখ্যক গাছে আক্রমণ দেখা যায়।। তবে অনেক সময় সিরিয়াস পেস্ট হিসাবেও দেখা যায়।

ক্ষতির ধরণ

এ পোকা আম গাছের কান্ড ও শাখাকে আক্রমণ করে। আক্রমণ স্থান দিয়ে পোকার মল নির্গত হয়। ছোট গাছ আক্রান্ত হলে গাছ মারা যেতে পারে। আক্রান্ত শাখাগুলি সহজেই ভেঙ্গে যায়।

প্রতিকার

ক) গাছের কান্ড বা শাখায় কোন ছিদ্র দেখা গেলে ঐ ছিদ্র পথে সূঁচালো লোহার শিক বা সাইকেলের স্পোক ঢুকিয়ে পোকাটির কীড়াকে খুঁচিয়ে মেরে ফেলতে হবে
খ) ছিদ্রটি ভালভাবে পরিষ্কার করে তার মধ্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ভিজানো তুলা ঢুকিয়ে ছিদ্রের মুখ কাদা দিয়ে ভালবাবে বন্ধ করে দিতে হবে।

পাতা কাটা উইভিল

 

নার্সারীতে চারা গাছের কচি পাতায় এই পোকার আক্রমণ বেশী দেখা যায়। তাছাড়া অনেক সময় বড় আম গাছের কচি পাতা কাটতেও দেখা যায়। এ পোকা সাধারণতঃ আম ছাড়া অন্য কোন গাছের ক্ষতি করে না।

ক্ষতির ধরণ

এ পোকা আম গাছের শুধু কচি পাতা কেটে ক্ষতি করে। কচি পাতার নিচের পিঠে মধ্যশিরার উভয় পাশে স্ত্রী পোকা ডিম পাড়ে এবং পরে পাতাটির বোঁটার কাছাকাছি কেটে দেয়। ভালো করে দেখলে কাঁচি দ্বারা কেউ কেটেছে বলে মনে হয়। এ পোকার আক্রমণে গাছের নতুন পাতা ধবংস হয়। বেশী আক্রমণে একটি ছোট গাছ পাতাশূন্য হতে পারে।

প্রতিকার

ক) নতুন কাটা পাতা মাটি থেকে সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে
খ) গাছে কচি পাতা বের হওয়ার সংগে সংগে ফেনিট্রোথিয়ন বা ফেনথিয়ন জাতীয় কীটনাশক ২ মিলি/ লিটার পানিতে স্প্রে করলে পোকার আক্রমণ রোধ করা যায়। তাছাড়া কার্বারিল জাতীয় কীটনাশক ২ গ্রাম/ লিটার পানিতে অথবা কারটাপ জাতীয় কীটনাশক ১ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলেও পোকার আক্রমণ রোধ করা যায়। এক্ষেত্রে হারভেস্ট-এ ভাল ফল পাওয়া যায়।

পাতার গল মাছি 

 

ক্ষতির ধরণ
কয়েক প্রকারের গল সৃষ্টিকারী পোকা আম গাছের কচি পাতায় আক্রমণ করে তাতে বিভিন্ন আকারের গল রোগের সৃষ্টি করে। পাতার উপর কিংবা নিচের পৃষ্ঠে কিংবা উভয় পৃষ্ঠে গল দেখা যায়। গল গুলি বিভিন্ন রং এর হয় যেমন- ধুসর, বাদামী, সবুজ, লাল ইত্যাদি। স্ত্রী পোকা আমের কচি পাতার নীচের দিকে ছিদ্র করে ডিম পাড়ে। ৩-৪ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে ম্যাগোট বা বাচ্চা পোকা বের হয়। পরে পাতার কোষ এবং টিস্যু সমুহে প্রবেশ করে রস খাওয়ার কারণে পাতায় গলের সৃষ্টি হয়। পাতায় গলের পরিমান বেশী হলে সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। অনেক সময় গাছের পাতা শুকিয়ে মারা যেতে পারে।

প্রতিকার

ক)আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে
খ) ঘনভাবে রোপণকৃত আম বাগানে ছায়া থাকে বিধায় আম গাছের পাতায় গলের আক্রমণটা বেশী হয়। এজন্য আম পাড়ার পরে কিছু ডালপালা ছাঁটাই করা ভাল
গ) ডাইমিথয়েট জাতীয় কীটনাশক ২ মিলি/ লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করলে আমের পাতায় গল মাছি দমন করা যায়। অথবা ডেল্টামেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক যেমন মেজর ১ মিলি/লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

এপসিলা পোকা

 

এপসিলা আমের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর পোকা। বর্তমানে এ পোকার আক্রমণ তেমন একটা দেখা যায় না। তবে এপসিলা পোকার আক্রমণ হঠাৎ করে বিক্ষিপ্ত ভাবে কোথাও কোথাও অল্প করে হলেও দেখা যায়। চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় এটি তাবিজ পোকা নামে অনেকের নিকট পরিচিত।

ক্ষতির ধরণ

কচি পাতায় পাড়া ডিমের ভিতর ভ্রুণাবস্থায় থাকা প্রথম ধাপের নিম্ফ পাতার ভিতর থেকে রস চুসে খায় এবং এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে যার কারণে পত্রকক্ষে সুচালো মুখবিশিষ্ট সবুজ রংয়ের মোচাকৃতি গলের সৃষ্টি হয়। এই গল সৃষ্টি হওয়ার কারণে পত্রকক্ষে আর কোন নতুন পাতা বা মুকুল বের হতে পারে না। গাছে বেশী পরিমানে গল সৃষ্টি হলে গলযুক্ত ডগা শুকিয়ে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও সেই সাথে আমের ফলন কমে যায়।

প্রতিকার

ক) অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সমস্ত আম গাছ থেকে নিম্ফসহ গল (তাবিজ) সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে
খ) মার্চ এপ্রিল মাসে আম গাছের পাতায় এপসিলা পোকার ডিম পাড়ার ক্ষতচিহ্ন দেখতে পাওয়া গেলে প্রতি লিটার পানির সাথে ডাইমিথয়েট জাতীয় কীটনাশক ২মিলি/ লিটার হারে মিশিয়ে পাতা ও ডালপালা ভালভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। অথবা ডেল্টামেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক যেমন মেজর ১ মিলি/লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।


উৎসঃ ইন্টারনেট